ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দি হত্যায় জিয়াউল আহসানের পৈশাচিকতা: পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশের রূপকার সাবেক এই কর্মকর্তার বিচার ট্রাইব্যুনালে

মোঃ রবিন হোসেন
  • প্রকাশ : ০২:০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৩ বার পাঠিত

​আওয়ামী লীগ আমলের গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বিবরণ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খোলা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিকদের গুম ও হত্যার নেপথ্যে থাকা এই মাস্টারমাইন্ডের নৃশংসতার সাক্ষ্য দিয়েছেন এক ট্রলার মাঝি।

​ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক জানান, জিয়াউল আহসানের সরাসরি নেতৃত্বে কীভাবে রাতের আঁধারে ঠান্ডা মাথায় মানুষ হত্যা করে লাশ গুম করা হতো। তার বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযানের দিন বিকেলে সাদা পোশাকে দুই জন র‍্যাব সদস্য স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের ৪ থেকে ৫টি মাইক্রোবাস সুন্দরবনসংলগ্ন চরদুয়ানি বাজারের বরফ মিলের সামনে এসে থামত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। বোট ছাড়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা সঙ্গে রশি ও সিমেন্টের বস্তা নিতেন।

​গভীর পানিতে পৌঁছানোর পর ট্রলারের গতি কমিয়ে চোখ-হাত বাঁধা বন্দিদের ডেকে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা অংশে বন্দিকে দুই জন র‍্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন এবং জিয়াউল আহসান নিজে বন্দির মাথা, কান বা বুকে গুলি করতেন। গুলির পর মৃতদেহের গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বাঁধার পাশাপাশি লাশ যেন ভেসে না ওঠে, সেজন্য পেট কেটে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। এছাড়া অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যার পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজানো হতো এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ডেকে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো। এসব পৈশাচিক অভিযান শেষে মাঝিদের খামে করে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।

​আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা গণতন্ত্র ও অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন এবং তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, তাদের স্তব্ধ করতেই এই গুম-খুনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। জিয়াউল আহসানের মতো কুশীলবদের এমন বর্বরোচিত অপরাধ শুধু ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বাকরুদ্ধ করেনি, পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও দেশবাসীর প্রত্যাশা, আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে এই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

বন্দি হত্যায় জিয়াউল আহসানের পৈশাচিকতা: পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে লাশের রূপকার সাবেক এই কর্মকর্তার বিচার ট্রাইব্যুনালে

প্রকাশ : ০২:০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​আওয়ামী লীগ আমলের গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বিবরণ উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন, সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খোলা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিকদের গুম ও হত্যার নেপথ্যে থাকা এই মাস্টারমাইন্ডের নৃশংসতার সাক্ষ্য দিয়েছেন এক ট্রলার মাঝি।

​ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক জানান, জিয়াউল আহসানের সরাসরি নেতৃত্বে কীভাবে রাতের আঁধারে ঠান্ডা মাথায় মানুষ হত্যা করে লাশ গুম করা হতো। তার বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযানের দিন বিকেলে সাদা পোশাকে দুই জন র‍্যাব সদস্য স্থানীয় দোকানদারদের সন্ধ্যার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে র‍্যাবের ৪ থেকে ৫টি মাইক্রোবাস সুন্দরবনসংলগ্ন চরদুয়ানি বাজারের বরফ মিলের সামনে এসে থামত। ঢাকা থেকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দিদের এনে ট্রলারে তোলা হতো। বোট ছাড়ার সময় র‍্যাব সদস্যরা সঙ্গে রশি ও সিমেন্টের বস্তা নিতেন।

​গভীর পানিতে পৌঁছানোর পর ট্রলারের গতি কমিয়ে চোখ-হাত বাঁধা বন্দিদের ডেকে আনা হতো। ট্রলারের দুই পাশে থাকা অংশে বন্দিকে দুই জন র‍্যাব সদস্য চেপে ধরে রাখতেন এবং জিয়াউল আহসান নিজে বন্দির মাথা, কান বা বুকে গুলি করতেন। গুলির পর মৃতদেহের গলায় বা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বাঁধার পাশাপাশি লাশ যেন ভেসে না ওঠে, সেজন্য পেট কেটে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। এছাড়া অনেক বন্দিকে সুন্দরবনে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যার পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজানো হতো এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ডেকে থানায় লাশ হস্তান্তর করা হতো। এসব পৈশাচিক অভিযান শেষে মাঝিদের খামে করে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।

​আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা গণতন্ত্র ও অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন এবং তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, তাদের স্তব্ধ করতেই এই গুম-খুনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। জিয়াউল আহসানের মতো কুশীলবদের এমন বর্বরোচিত অপরাধ শুধু ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বাকরুদ্ধ করেনি, পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও দেশবাসীর প্রত্যাশা, আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে এই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।