ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে অব্যবস্থাপনা দূর করার আশ্বাস দিলেন: পরিবেশমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: সোহাগ রানা
  • প্রকাশ : ০৩:১৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৬ বার পাঠিত

গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের অব্যবস্থাপনা দূর করা, অনুপস্থিত প্রাণী ফিরিয়ে আনা এবং পার্কের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে পার্ক থেকে লেমুর ভারতে পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় পার্কের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।মন্ত্রী বলেন, লেমুরগুলো কীভাবে দেশে এসেছে এবং পরে কীভাবে পার্ক থেকে বাইরে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভারতে পাওয়া দুটি লেমুর বাংলাদেশ থেকেই গেছে কি না, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি দুই দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তদন্তে সময় লাগতে পারে। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাফারি পার্কে বাঘ, লেমুর, জলহস্তীসহ বিভিন্ন প্রাণীর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পার্কে যেসব প্রাণী নেই, সেগুলো ফিরিয়ে আনা বা নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্কের ভেতরের যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোও সংস্কার করা হবে।পার্কের দেওয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়া নীলগাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলগাইটিকে টাঙ্গাইল এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে মাঝে মাঝে দেখা যায় বলে জানা গেছে। পার্কে প্রাণীটির অনুপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এটিকেও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা। পাশাপাশি বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ, তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।বিকেল ৩টার দিকে সাফারি পার্কের কোর সাফারি এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা গভীর রাতে বনের ভেতরে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি চিঠি দিয়েছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সারা দেশে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না গেলে দূষণ রোধ করা কঠিন হবে। এ জন্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাফারি পার্কের দর্শনার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। সাফারি পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।পরিদর্শনকালে বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইন এবং ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে অব্যবস্থাপনা দূর করার আশ্বাস দিলেন: পরিবেশমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৩:১৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের অব্যবস্থাপনা দূর করা, অনুপস্থিত প্রাণী ফিরিয়ে আনা এবং পার্কের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে পার্ক থেকে লেমুর ভারতে পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় পার্কের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।মন্ত্রী বলেন, লেমুরগুলো কীভাবে দেশে এসেছে এবং পরে কীভাবে পার্ক থেকে বাইরে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভারতে পাওয়া দুটি লেমুর বাংলাদেশ থেকেই গেছে কি না, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি দুই দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তদন্তে সময় লাগতে পারে। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সাফারি পার্কে বাঘ, লেমুর, জলহস্তীসহ বিভিন্ন প্রাণীর অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পার্কে যেসব প্রাণী নেই, সেগুলো ফিরিয়ে আনা বা নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পার্কের ভেতরের যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোও সংস্কার করা হবে।পার্কের দেওয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়া নীলগাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলগাইটিকে টাঙ্গাইল এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে মাঝে মাঝে দেখা যায় বলে জানা গেছে। পার্কে প্রাণীটির অনুপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এটিকেও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য পরিবেশ রক্ষা। পাশাপাশি বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ, তাদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।বিকেল ৩টার দিকে সাফারি পার্কের কোর সাফারি এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা গভীর রাতে বনের ভেতরে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি চিঠি দিয়েছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সারা দেশে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা না গেলে দূষণ রোধ করা কঠিন হবে। এ জন্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাফারি পার্কের দর্শনার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। সাফারি পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।পরিদর্শনকালে বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইন এবং ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।