ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় গ্রিডে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বিক্রি করা যাবে প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৮:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৮ বার পাঠিত

​টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এর আওতায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে গ্রাহকরা প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। বিদ্যুৎ বিভাগ এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

​প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর এবং দরপত্রের মূল্যায়ন বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো গ্রাহক যদি এর চেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হন, তবে সে ক্ষেত্রে সাশ্রয় হওয়া পুরো অর্থই তাদের অতিরিক্ত লাভাংশ হিসেবে গণ্য হবে।

​নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ এর আওতায় যেসকল গ্রাহক আগামী ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, কেবল তারাই এই বিশেষ প্রণোদনার সুবিধা পাবেন। এই নীতিমালার আওতায় গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ টানা তিন বছর গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে এই নির্ধারিত হারে অর্থ ফেরত পাবেন।

​বিতরণ সংস্থাগুলো জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ ও গ্রাহকের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করবে এবং প্রণোদনার এই অর্থ প্রতি তিন মাস অন্তর সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই এই প্রণোদনার অর্থ নগদ প্রদান করা হবে না। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন করে স্থাপিত কোনো ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা আর প্রযোজ্য হবে না।

​সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের মান নিয়ন্ত্রণেও কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা) কর্তৃক নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এসংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত সহায়তা পাওয়ার জন্য গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার কিংবা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন। সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই প্রণোদনা দেশের ঘরবাড়িতে বা কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে এবং জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে সাহায্য করবে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় গ্রিডে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বিক্রি করা যাবে প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকায়

প্রকাশ : ০৮:৪০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এর আওতায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে গ্রাহকরা প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। বিদ্যুৎ বিভাগ এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

​প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর এবং দরপত্রের মূল্যায়ন বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো গ্রাহক যদি এর চেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হন, তবে সে ক্ষেত্রে সাশ্রয় হওয়া পুরো অর্থই তাদের অতিরিক্ত লাভাংশ হিসেবে গণ্য হবে।

​নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ এর আওতায় যেসকল গ্রাহক আগামী ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, কেবল তারাই এই বিশেষ প্রণোদনার সুবিধা পাবেন। এই নীতিমালার আওতায় গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ টানা তিন বছর গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে এই নির্ধারিত হারে অর্থ ফেরত পাবেন।

​বিতরণ সংস্থাগুলো জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ ও গ্রাহকের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করবে এবং প্রণোদনার এই অর্থ প্রতি তিন মাস অন্তর সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই এই প্রণোদনার অর্থ নগদ প্রদান করা হবে না। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের পর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন করে স্থাপিত কোনো ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা আর প্রযোজ্য হবে না।

​সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের মান নিয়ন্ত্রণেও কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা) কর্তৃক নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অবশ্যই পূরণ করতে হবে। এসংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত সহায়তা পাওয়ার জন্য গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার কিংবা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন। সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই প্রণোদনা দেশের ঘরবাড়িতে বা কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে এবং জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে সাহায্য করবে।