ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যার প্রধান আসামিসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল ফোন ও আলামত উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৮:০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৯ বার পাঠিত

কুমিল্লায় সংঘটিত ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ উদ্ধার এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

​রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার মর্মান্তিক ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার মূল উৎস হিসেবে যে মোবাইল ফোনটি কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, সেটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সব আলামত জব্দ করা হয়েছে।

​তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স কম হতে পারে। তারা মূলত একটি কিশোর অপরাধ চক্রের অংশ এবং নিহতের সঙ্গে পূর্বে তাদের সখ্য ও নিয়মিত চলাফেরা ছিল। দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দ করায় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতার প্রশংসা করেন।

​সামাজিক অবক্ষয়কে অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধগুলোর পেছনে মাদক, জুয়া কিংবা পর্নোগ্রাফির মতো অনুষঙ্গ জড়িত। এ থেকে উত্তরণে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আননে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্তর থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধে সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

​সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

​এক প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে গঠনমূলক সমালোচনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

​দেশে জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান, শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।

​এছাড়া রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঘটনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক তদন্ত ও মোবাইল ফরেনসিকের পর প্রমাণ না পাওয়ায় ১১ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিরা ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে রিমান্ডে এনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপ্রতিম হত্যার প্রধান আসামিসহ ৪ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল ফোন ও আলামত উদ্ধার

প্রকাশ : ০৮:০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় সংঘটিত ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ উদ্ধার এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

​রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার মর্মান্তিক ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার মূল উৎস হিসেবে যে মোবাইল ফোনটি কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, সেটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সব আলামত জব্দ করা হয়েছে।

​তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স কম হতে পারে। তারা মূলত একটি কিশোর অপরাধ চক্রের অংশ এবং নিহতের সঙ্গে পূর্বে তাদের সখ্য ও নিয়মিত চলাফেরা ছিল। দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দ করায় তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতার প্রশংসা করেন।

​সামাজিক অবক্ষয়কে অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধগুলোর পেছনে মাদক, জুয়া কিংবা পর্নোগ্রাফির মতো অনুষঙ্গ জড়িত। এ থেকে উত্তরণে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আননে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্তর থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধে সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

​সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

​এক প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে গঠনমূলক সমালোচনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

​দেশে জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান, শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।

​এছাড়া রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঘটনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক তদন্ত ও মোবাইল ফরেনসিকের পর প্রমাণ না পাওয়ায় ১১ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিরা ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে রিমান্ডে এনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।