ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৭, আহত ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৮:০০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ বার পাঠিত

আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​রোববার সন্ধ্যায় কারখানার ভেতরে আচমকা বিস্ফোরণের পর চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার ধারাবাহিক চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

​ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর কারখানার পাশে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই নারীর নাম মোছাম্মৎ জয়নব বেগম (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী। কাভার্ড ভ্যানে পাওয়া বাকি পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

​অন্যদিকে, বিস্ফোরণে আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলাম (৩০) নামের এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি ওই কারখানার সামনের রাস্তায় পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবসা করতেন। তার সঙ্গে আহত হয়ে ঢামেকে ভর্তি রয়েছেন সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫) এবং গ্যাস পরিবহনকারী গাড়ির চালক নুর ইসলাম (৩০)। এদের মধ্যে নুর ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের বয়ান অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পরপরই লোহার টুকরো, ইটপাটকেল ও কাঁচের ভগ্নাংশ চারপাশে ছিটকে এসে পড়ে। এতে পথচারী ও স্থানীয়রা মারাত্মক আঘাত পান।

​শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানার ভেতরে বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

​আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

​এদিকে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাদের বাহিনীর মাসুদ নামের এক সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় সাভার নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড: নিহত ৭, আহত ১৪

প্রকাশ : ০৮:০০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​রোববার সন্ধ্যায় কারখানার ভেতরে আচমকা বিস্ফোরণের পর চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার ধারাবাহিক চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

​ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর কারখানার পাশে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কারখানার গেটের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই নারীর নাম মোছাম্মৎ জয়নব বেগম (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী। কাভার্ড ভ্যানে পাওয়া বাকি পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

​অন্যদিকে, বিস্ফোরণে আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলাম (৩০) নামের এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি ওই কারখানার সামনের রাস্তায় পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবসা করতেন। তার সঙ্গে আহত হয়ে ঢামেকে ভর্তি রয়েছেন সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫) এবং গ্যাস পরিবহনকারী গাড়ির চালক নুর ইসলাম (৩০)। এদের মধ্যে নুর ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের বয়ান অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পরপরই লোহার টুকরো, ইটপাটকেল ও কাঁচের ভগ্নাংশ চারপাশে ছিটকে এসে পড়ে। এতে পথচারী ও স্থানীয়রা মারাত্মক আঘাত পান।

​শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানান, কারখানার ভেতরে বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

​আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, কাভার্ড ভ্যানের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

​এদিকে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাদের বাহিনীর মাসুদ নামের এক সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় সাভার নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।