ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে তরা ব্রিজে পৌলী-চামটা-খাগড়াকুড়ি গ্রামবাসীর মানববন্ধন
- প্রকাশ : ১০:০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৬ বার পাঠিত

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তরা ব্রিজের সংলগ্ন কৃষি জমি রক্ষা এবং কৃষক পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন পৌলী, চামটা ও খাগড়াকুড়ি গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ।
২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তরা ব্রিজের ওপর শত শত কৃষক, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও ফসলি জমি সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীদের অভিযোগ, তরা ব্রিজের নিচে বালু উত্তোলনের সরকারি ইজারা নিয়েছে ‘মেসার্স রিজু এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ কামাল হোসেন ইজারাকৃত নির্ধারিত সীমানার তোয়াক্কা না করে আশপাশের কৃষি জমি থেকে বেপরোয়া ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে করে শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং তরা ব্রিজের অবকাঠামোগত স্থায়িত্ব মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কৃষকরা এ বিষয়ে আপত্তি জানালে অভিযুক্ত এই রাজনৈতিক নেতা তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করছেন বলে জানা গেছে।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তাদের রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একইভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন করে এলাকার কৃষি সম্পদের অপপূরণীয় ক্ষতি করেছে। সে সময় কোনো প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করলে প্রতিবাদকারীদের নানা ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হতে হতো। বর্তমানে প্রেক্ষাপট পাল্টালেও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চলমান থাকায় গভীর হতাশা ব্যক্ত করে তারা বলেন, অতীত ও বর্তমানের বালু খেকো নেতাদের চালচলন ও নদী-জমি দখলের মানসিকতায় কোনো পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না।
মানববন্ধনে প্রধান বক্তারা সতর্ক করে বলেন, আবাদি জমি ধ্বংসের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তা কেবল কৃষকদের জীবিকাই নষ্ট করবে না, বরং পুরো এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেবে। তাই যেকোনো মূল্যে এ পরিবেশ ও আবাদি জমি রক্ষা করতে হবে।
পরিস্থিতি নিরসনে ভুক্তভোগীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে আকুল আবেদন জানান, তারেক রহমান সাহেব, আমাদের আবাদি জমি ও অসহায় কৃষক পরিবারগুলোকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।
গ্রামবাসী স্পষ্টভাবে জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দিতে বাধ্য হবেন।
উক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পৌলী, চামটা ও খাগড়াকুড়ি গ্রামের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।



















