ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ডিসেম্বর টার্গেট করে দেশবিরোধী কার্যকলাপের উপর ভর করে মাঠে ফেরার ছক: নিষিদ্ধ আ.লীগের, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশ : ০৯:৩৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৯ বার পাঠিত

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত দলের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

​গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের শক্তির জানান দিতে বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ সদস্যের পুরো টিমকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে এই যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারবিরোধী তৎপরতা ও তহবিল গঠনের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপুসহ বিদেশে অবস্থানরত হেভিওয়েট নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলের ক্যাডাররা কাজ করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডাররা। পাশাপাশি ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, খুলনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন। অর্থনৈতিক সচলতা ও পরিচয় গোপনের জন্য তারা রাইড শেয়ারিং, অটোরিকশাচালনা, বিউটি পার্লার পরিচালনা, মোটরসাইকেলের শোরুম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার মতো পেশাকে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে দলের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত ককটেল, বোমা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার হওয়ার ঘটনাগুলোকে গোপন নাশকতার ছক হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠপর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার জানিয়েছেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অপচেষ্টা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্লেষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার দায় এবং সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগের পক্ষে এত দ্রুত রাজনৈতিক অঙ্গনে পুনর্বাসিত হওয়া মোটেও সহজ নয়। ডিসেম্বরকে ঘিরে দলের পক্ষ থেকে যে তৎপরতা চালানো হচ্ছে, তা মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। তবে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

ডিসেম্বর টার্গেট করে দেশবিরোধী কার্যকলাপের উপর ভর করে মাঠে ফেরার ছক: নিষিদ্ধ আ.লীগের, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

প্রকাশ : ০৯:৩৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিষ্ক্রিয় থাকলেও ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করা, পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত দলের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

​গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের শক্তির জানান দিতে বেশ কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে বনানী, ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, সাভার এবং সুনামগঞ্জের ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের ঝটিকা মিছিল প্রতিরোধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানার ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ সদস্যের পুরো টিমকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রাখছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের পলাতক নেতাদের সঙ্গে এই যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারবিরোধী তৎপরতা ও তহবিল গঠনের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নসরুল হামিদ বিপুসহ বিদেশে অবস্থানরত হেভিওয়েট নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূলের ক্যাডাররা কাজ করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী, আফতাবনগর, খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরাসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডাররা। পাশাপাশি ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, খুলনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসব এলাকায় আত্মগোপনে আছেন। অর্থনৈতিক সচলতা ও পরিচয় গোপনের জন্য তারা রাইড শেয়ারিং, অটোরিকশাচালনা, বিউটি পার্লার পরিচালনা, মোটরসাইকেলের শোরুম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার মতো পেশাকে বেছে নিয়েছেন। এছাড়া কিছু অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে দলের পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত ককটেল, বোমা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার হওয়ার ঘটনাগুলোকে গোপন নাশকতার ছক হিসেবে দেখছেন গোয়েন্দারা। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে সব ইউনিটকে সতর্ক করে মাঠপর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার জানিয়েছেন, অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অপচেষ্টা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্লেষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার দায় এবং সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে আওয়ামী লীগের পক্ষে এত দ্রুত রাজনৈতিক অঙ্গনে পুনর্বাসিত হওয়া মোটেও সহজ নয়। ডিসেম্বরকে ঘিরে দলের পক্ষ থেকে যে তৎপরতা চালানো হচ্ছে, তা মূলত কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল মাত্র। তবে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।