ডিসেম্বরেই ফেরার লক্ষ্য: লন্ডন থেকে রোডম্যাপের অপেক্ষা
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন: ভারতে জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা
- প্রকাশ : ০৭:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪৪ বার পাঠিত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ ও স্থানীয় নেতা ভারতে জড়ো হতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে কলকাতার নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে অবস্থান করছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একঝাঁক নেতা। তারা শেখ হাসিনার সাথেই একই সময়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ থেকে অনেক নেতাকর্মী কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন। এর বাইরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা আরও বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ফেরার দিনেই একযোগে বাংলাদেশে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বরাতে এই প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুন ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার বা এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে, তবে গ্রেফতার বা মৃত্যু—ভাগ্যে যাই থাকুক না কেন, তিনি তা মেনে নিতে প্রস্তুত। একই সাথে কোনো বিদেশি শক্তির সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি তিনি নাকচ করে দেন।
দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যভাগ বা শেষ দিকে লন্ডন থেকে পশ্চিমা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চূড়ান্ত দিনক্ষণ ও রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত দলটির এক নেতা জানান, সব প্রস্তুতি শেষ হলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত জানানো হবে।
বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানরত সিনিয়র নেতাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক ও রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। এদের মধ্যে রয়েছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করীম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ক ম মোজাত্মেল হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আব্দুর রহমান; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সুজিত রায় নন্দী, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, নিজাম উদ্দিন হাজারী, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ অনেকে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও থাইল্যান্ডে অবস্থানরত সাবেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি বড় অংশ যেকোনো মুহূর্তে কলকাতায় এসে দলের মূল ধারার সাথে যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে। নেপালে আশ্রয় নেওয়া নেতাদের বড় একটি অংশও সম্প্রতি ভারতসহ অন্যান্য দেশে চলে এসেছেন।
তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আইনি ও প্রযুক্তিগত অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করছেন, তাদের কাছে বিকল্প পথ খোলা রয়েছে, যা সঠিক সময়ে প্রকাশ করা হবে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে যাওয়া শতাধিক নেতাকর্মী বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই গোপনে দেশে ফিরে সাংগঠনিক কাজ চালাচ্ছেন এবং নিজ নিজ এলাকার কর্মীদের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ রাখছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেখ হাসিনা যেদিন দেশে পা রাখবেন, সেদিন দেশের ভেতরে থাকা সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একযোগে রাজপথে নামার নির্দেশনা রয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারের কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো অনলাইনে বেশ সক্রিয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, বিক্ষোভ ও অন্যান্য তৎপরতার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা চলছে।


















