ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা ও মানবাধিকার ইস্যু: ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল পেরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশ : ১০:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭ বার পাঠিত

​দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষা, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​ঐতিহাসিকভাবে পেরু শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে প্রতিশ্রুত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে গণতন্ত্রের ক্রমাগত অবনতি, ভিন্নমত দমন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পেরু সরকার। দেশটির অভিযোগ, ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের দমনের বিষয়টিও কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

​মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয়টিতেও জোর দিয়েছে পেরু। গত মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছে পেরু সরকার। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনা এই আঞ্চলিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

​পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বজায় থাকা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই আকস্মিক অবসান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগ :

সংবাদটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা ও মানবাধিকার ইস্যু: ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল পেরু

প্রকাশ : ১০:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গণতন্ত্র রক্ষা, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​ঐতিহাসিকভাবে পেরু শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে প্রতিশ্রুত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে গণতন্ত্রের ক্রমাগত অবনতি, ভিন্নমত দমন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পেরু সরকার। দেশটির অভিযোগ, ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের দমনের বিষয়টিও কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

​মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয়টিতেও জোর দিয়েছে পেরু। গত মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছে পেরু সরকার। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনা এই আঞ্চলিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

​পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বজায় থাকা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই আকস্মিক অবসান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।